মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গীর্জা

গীর্জা সমুহ

 

 

গির্জা বা গীর্জ্জা খ্রিষ্টানদের গণউপাসনালয়, যেখানে খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের সভ্যরা সমবেত হয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। ২য় খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খ্রিস্ট ধর্মালম্বদের কোন গণ উপাসনা মন্দির স্থাপিত হয়নি, উপাসনা ছিল একান্ত বিষয়। যীশু খ্রিস্টের তিরোধানের পর তাঁর অনুসারীরা নিজ গৃহে, দূর প্রান্তরে, নির্জন সমাধি ক্ষেত্রে ইত্যাকার স্থানে, একান্তে, ঈশ্বরের উপাসনা করতেন।[১]

 
সেন্ট জন গির্জা, কলকাতা

গির্জা শব্দটির ইংরেজী প্রতিশব্দ Church, যার ব্যুৎপত্তি গ্রিক থেকে এবং অর্থ "ঈশ্বরের মন্দির"।, তবে পরবর্তীতে ইংরেজী চার্চ বলতে খ্রিস্টের অনুসারীদের ধমদর্শন বুঝানো হয়, যেমন অর্থোডক্স চার্চক্যাথলিক চার্চপ্রোটেস্টান্ট চার্চ ইত্যাদি। খ্রিস্টানদের বাইবেলে গির্জা শব্দটি নেই। Tertullian এর লেখায় সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহৃত হয় যাতে বোঝা যায় খ্রিস্টপরবর্তী ৩য় দশকে প্রথম গণউপসনালয় হিসাবে গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

যিশু
Cefalù Pantocrator retouched.jpg
জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৪ অব্দ নাগাদ[ক]
হেরোডিয়ান টেট্রার্কিরোমান সাম্রাজ্য[৫]
মৃত্যু ৩০-৩৩ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ[খ] 
(বয়স আনুমানিক ৩৩)
জেরুসালেমজুডিয়া, রোমান সাম্রাজ্য
মৃত্যুর কারণ ক্রুশারোহণ[গ]
আদি শহর নাজারেথগ্যালিলি[১১]
পিতা-মাতা

যিশু (ইংরেজিJesus {IPAc-en|ˈ|dʒ|iː|z|ə|s}} JEE-zuss }} গ্রিকἸησοῦςহিব্রু ভাষায়ישוע‎;[১২] আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪ অব্দ – আনুমানিক ৩০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন একজন ইহুদি ধর্মপ্রচারক,[১৩] যিনি খ্রিস্টধর্মের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।[১৪][১৫] তাঁকে নাজারেথের যিশু (ইংরেজি: Jesus of Nazareth) বা যিশু খ্রিস্ট (ইংরেজি: Jesus Christ) নামেও অভিহিত করা হয়।[ঙ] খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন, তিনি হলেন ঈশ্বরপুত্র এবং পুরাতন নিয়মে যে মসিহ (খ্রিস্ট, অভিষিক্ত ব্যক্তি) সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, সেই মসিহ।[১৪][১৫]

কার্যত প্রাচীন ইতিহাসবিদ সকল গবেষকই এই ব্যাপারে একমত যে যিশু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।[চ] তাঁরা মনে করেন, পর্যবেক্ষণমূলক সুসমাচারগুলি (ম্যাথিউমার্ক ও লুক) হল যিশুর ঐতিহাসিক সত্যতা অনুসন্ধানের শ্রেষ্ঠ সূত্র।[২২][২৩] যিশুকে প্রায়শই "রাব্বি" সম্বোধন করা হয়েছে।[২৪] তিনি মুখে মুখে তাঁর বাণী প্রচার করতেন।[২৫] দীক্ষাদাতা যোহন তাঁকে দীক্ষা (ব্যাপ্টিজম) দিয়েছিলেন এবং রোমান প্রিফেক্ট পন্টিয়াস পাইলেটের আদেশে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল।[২৬] আধুনিক যুগে সাধারণভাবে মনে করা হয় যে, যিশু ছিলেন একজন রহস্যোদ্ঘাটনবাদী ধর্মপ্রচারক এবং তিনি ইহুদি ধর্মের মধ্যেই একটি সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। যদিও কয়েকজন বিশিষ্ট গবেষক মনে করেন যে, যিশু আদৌ রহস্যোদ্ঘাটনবাদী ছিলেন না।[২৭][২৮] ঈশ্বরের ইচ্ছা পালনের শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি কী, তা নিয়ে যিশু ইহুদি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতেন, রোগীদের রোগমুক্ত করতেন, নীতিগর্ভ কাহিনির মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন এবং শিষ্য সংগ্রহ করতেন।[২৬] যিশুর অনুগামীরা বিশ্বাস করতেন যে, তিনি মৃত্যুর পর পুনর্জীবন লাভ করেছিলেন এবং তাঁরা যে সমাজ গঠন করেছিলেন তা-ই পরবর্তীকালে খ্রিস্টীয় চার্চে পরিণত হয়।[২৯] ২৫ ডিসেম্বর তারিখে (বা কয়েকটি ইস্টার্ন চার্চের মতানুসারে জানুয়ারির বিভিন্ন তারিখে) যিশুর জন্মদিন পালিত হয়। এটি একটি ছুটির দিন এবং এটি বড়দিন বা ক্রিসমাস নামে পরিচিত। যিশুর ক্রুশারোহণের তারিখটি গুড ফ্রাইডে এবং পুনর্জীবন লাভের তারিখটি ইস্টার নামে পরিচিত। বহুল ব্যবহৃত পঞ্জিকা যুগ "খ্রিস্টাব্দ" (লাতিন "Anno Domini" বা "আমাদের প্রভুর বছরে" থেকে) যিশুর জন্মতারিখের ভিত্তিতে প্রচলিত।[৩০][৩১][৩২]

খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বে যিশুর একটি “স্বতন্ত্র গুরুত্ব” রয়েছে।[৩৩] খ্রিস্টীয় মতবাদের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বাসগুলির মধ্যে রয়েছে পবিত্র আত্মার প্রভাবে যিশুর গর্ভে প্রবেশ এবং মেরি নাম্নী এক কুমারীর গর্ভে জন্ম, যিশুর বিভিন্ন অলৌকিক কার্য সম্পাদন, চার্চ প্রতিষ্ঠা, প্রতিকারবিধানার্থে আত্মত্যাগ স্বরূপ ক্রুশারোহণে মৃত্যু, মৃত অবস্থা থেকে পুনর্জীবন লাভ, সশরীরে স্বর্গে আরোহণ, এবং ভবিষ্যতে তাঁর পুনরাগমনে বিশ্বাস।[৩৪] অধিকাংশ খ্রিস্টানই বিশ্বাস করেন, যে যিশু ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের পুনর্মিলন ঘটানোর শক্তি রাখেন। নাইসিন ধর্মমত অনুসারে, যিশু মৃতদের বিচার করবেন[৩৫] এই বিচারকার্য সম্পাদিত হবে হয় তাদের শারীরিক পুনর্জীবন লাভের আগে অথবা পরে[৩৬][৩৭][৩৮] এই ঘটনাটি খ্রিস্টীয় শেষবিচারবাদে যিশুর দ্বিতীয় আগমনের সঙ্গে যুক্ত।[৩৯] যদিও কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, ত্রাণকর্তা রূপে যিশুর ভূমিকা মৃত্যুপরবর্তী জীবনের তুলনায় অনেকাংশেই জীবনবাদমূলক বা সমাজমূলক[৪০] অল্প কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ধর্মতত্ত্ববিদ বলেছেন যে, যিশু একটি বিশ্বজনীন পুনর্মিলন ঘটাবেন।[৪১] খ্রিস্টানদের অধিকাংশই যিশুকে ত্রয়ীর তিন জন ব্যক্তির দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরপুত্রেরঅবতার রূপে পূজা করেন। খ্রিস্টানদের একটি সংখ্যালঘু অংশ সম্পূর্ণত বা অংশত ত্রয়ীবাদকে অশাস্ত্রীয় বলে প্রত্যাখ্যান করে

ইসলাম ধর্মে যিশুকে (ইসলামে তিনি ঈসা নামে পরিচিত) ঈশ্বরের তথা আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী ও মসিহ বলে মনে করা হয়।[৪২][৪৩][৪৪] মুসলমানেরা বিশ্বাস করেন যে, যিশু ছিলেন শাস্ত্র আনয়নকারী নবী তথা রাসূল। তিনি কুমারীগর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তাঁরা যিশুকে ঈশ্বরপুত্র মনে করেন না। কুরআন অনুসারে, যিশু নিজে কোনওদিন নিজের ঈশ্বরত্ব দাবি করেননি।[৪৫] অধিকাংশ মুসলমানের মতে, যিশু ক্রুশবিদ্ধ হননি। ঈশ্বর তাঁকে সশরীরে স্বর্গে তুলে নিয়েছিলেন। ইহুদি ধর্ম বিশ্বাস করে না যে, যিশুই সেই মসিহ যাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। ইহুদিদের মতে, ক্রুশে যিশুর মৃত্যুই প্রমাণ করে যে ঈশ্বর তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁরা যিশুর পুনর্জীবন লাভের ঘটনাটিকে একটি খ্রিস্টীয় কিংবদন্তি মনে করেন।[৪৬]

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter